জন্মের পর থেকে তিনি ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত মদীনা শরিফে দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করেন। প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহীসাল্লাম) এর বাতেনী নির্দেশে এবং ভারতের রামপুর ষ্টেটের নবাব কলবে আলী খাঁর অনুরোধে ইসলাম প্রচারার্থে তিনি ও তাঁর চাচা মাওলানা এরশাদ হুসাইন ভারতের রামপুরে আগমন করেন। ভারতে এসে বিভিন্ন ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাদিস গ্রন্থ অধ্যাপনায় নিয়োজিত হন। ঐ সময়ের ব্রিটিশ ভারতের মোসলমান বেরলভী ও দেওবন্দি দুই দলে বিভক্ত। সৈয়দ আবেদ শাহ আল-মাদানী কোরান, হাদিসের সহি তাফসীর, সুন্নী আকীদা ও সুফিতত্বের এলেম (জ্ঞান) দ্বারা বেরলভী ভাবধারায় বহাস ও মোনাজেরার মাধ্যমে সুন্নী ইসলাম প্রতিষ্টার চেষ্টা করেন।
ইসলাম প্রচারের ধারাবাহিকতায় তিনি পাঞ্জাবের খৃষ্টান ধর্মাম্বলি প্রধানদের সমিপে ইসলামের (আমন্ত্রণ) দাওয়াত পৌছান এবং ইসলামিক যুক্তি-তর্ক উপস্থান করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে আহবান জানান। এক সময় খৃষ্টান ধর্মাম্বলি প্রধানরা তাঁর সাথে বহাস করতে উদ্বুদ্ধ হয় এবং বহাসে পরাজিত হয়। এ ভাবে তিনি ভারতীয় সুন্নী মুসলিমদের কাছে বাহরুল উলুম হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। ভারতের শিয়া সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতিও সুন্নীমতাদর্শ উপস্থানের মাধ্যমে ইসলামের মূলনীতি আল্লাহর কিতাব (কোরান) ও রাসূলের সুন্নাত এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাত অনুসরণের জন্য বিভিন্ন চ্যালাঞ্জের মোকাবেলা করেন এবং তাদের ভুল খণ্ডন করে আহলে সুন্নাত হওয়ার আমন্ত্রন জানান। এ ভাবে তিনি ভারত উপমহাদেশে সুন্নীয়ত প্রচারের ভূমিকা রাখেন এবং ব্রিটিশ ভারতের মুসলিম সমাজ সংস্কারের চেষ্টা করেন অবিরত।
সৈয়দ আবেদ শাহ মোজাদ্দেদী কোরান, হাদিস ও খোলাফায়ে রাশেদীনের আমল দ্বারা মিলাদ-কিয়াম ও ঈদে মিলাদুন্নবী গুরুত্ব প্রচার ও প্রতিষ্টায় সচেষ্ট ছিলেন। ১৩৪৬ হিজরি সনে মিলাদ ও কেয়াম সম্পর্কিত দলিল প্রমাণ উপাস্থান করতে বহাসে অংশ নেন এবং মিলাদ ও কেয়ামের গুরুত্ব ধরে তুলেন। ১৩৪৮ হিজরি সনে দিল্লীর ফতেহপুর জামে মসজিদে ছয় উছুলি তবলিগ কে নতুন আবিস্কৃত সাবস্ত করেন। এ ভাবে দেওবন্দি ভাবধারার আলেম সম্প্রদায়ের সাথে সৈয়দ আবেদ শাহ মোজাদ্দেদী (রঃ) সুন্নীমতাদর্শ প্রতিষ্টায় মোনাযারায় (তর্কযুদ্ধে) জড়িয়ে পড়েন। ১৩৪৭ হিজরি সনে বাশঁ বেরেলভীতে জামেয়া রেজভীয়ায় রেজভীয়া শরিফের প্রতিষ্টাতা ইমামে অাহলে সুন্নাত আলা হযরত বেরলভীর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও খলীফা হযরত হজ্জাতুল ইসলাম অাল্লামা কাদের রেজা খান, সৈয়দ মুহাম্মদ কাসুয়াসুরী, মালেখুল ওলামা শাইখুল হাদীস আল্লামা জাফরুদ্দীন বিহারী সুন্নী উলামাদের পক্ষে যোগ দিয়ে বহাসে অংশ নেন। আর সেই থেকে রেজবী বা বেরলভী পরিচয়ে আখ্যায়িত হন।